জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আলু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের চিপস। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেপসিকো কোম্পানির লেইস ব্র্যান্ডের পটেটো চিপস বিশ্বজুড়ে ব...
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আলু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের চিপস। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেপসিকো কোম্পানির লেইস ব্র্যান্ডের পটেটো চিপস বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও চিপসপ্রেমীদের কাছে প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ব্যাপক চাহিদার কারণে বিখ্যাত এ ব্র্যান্ডের চিপস এখন থেকে বাংলাদেশেই উৎপাদন হচ্ছে। বগুড়ার প্ল্যান্টে কারখানা স্থাপন করে ট্রান্সকম কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের সহযোগিতায় স্থানীয়ভাবে পটেটো চিপসের উৎপাদন শুরু করেছে।
জানা যায়, চিপসের জন্য আলু সংগ্রহ করা হচ্ছে বগুড়া ও তার আশেপাশে জেলা থেকে। কৃষকদের আলুর বীজ দেওয়া থেকে শুরু করে তোলা পর্যন্ত যাবতীয় তদারকি করে থাকেন ডিলারদের মাধ্যমে। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা থেকে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে এবছর ২৩০ টন বাছাইকৃত আলু নিয়েছে পেপসিকো কোম্পানি।
কালাই উপজেলার ঝামুধপুর গ্রামের মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ডিলারের কাছ থেকে বারি ৬৮ (আটলান্টিক) জাতের আলু বীজ নিয়ে সাড়ে চার বিঘা মাটিতে আলু লাগিয়েছি। গ্রেডিং করার পরেও ৪১৫ মন আলু হয়েছে। আলু জমি থেকে তুলে রাস্তায় ট্রাকে লোড দিয়ে মন প্রতি ৮৪০ টাকা করে পেয়েছি। মোট ৩,৪৮ হাজার ৬ শত টাকার আলু বিক্রি করেছি।
একই গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন ৫০ শতক জমিতে আলু লাগিয়েছি। রোগ বালাই অনেক কম হওয়ায় ভালো ফলন হয়। আলু গাছের যত্ন নিলে প্রতি শতকে ৪ মন করে আলু হয়। আমাদের দেখে এলাকার অনেক চাষী আলু লাগাতে আগ্রহী হয়েছে। কোম্পানি যদি বীজ দিতে পারে আমাদের এদিকে প্রায় সকল চাষীরাই এই আলু চাষ করবে।
পেপসিকো কোম্পানির আলু উৎপাদনকারী ডিলার শাহিনুর রহমান বলেন, পেপসিকো কোম্পানি কৃষকদের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করে বারি ৬৮ জাতের আলু চাষাবাদ করে নিচ্ছেন। এবছর ১৫ জন চাষি ৩৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে আলু গ্রেডিং করে পেপসিকো কোম্পানিতে দেওয়া হয়। নন গ্রেডিং আলু কৃষকরা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে অধিক লাভে কৃষকদের কাছ থেকে কোম্পানি আলু ক্রয় করেন।
পেপসিকো কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার ওসমান গনি বলেন লেইস বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। আগে ইন্ডিয়া থেকে চিপস আসতো বাংলাদেশে, এখন দুই বছর হলো পেপসিকোকে ট্রান্সকমের সঙ্গে মিলিয়ে বাংলাদেশে চিপস তৈরি শুরু করেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হবে। কালাই উপজেলায় প্রচুর আলু উৎপাদিত হয়। সেখানে আমাদের তিনজন ডিলারদের মাধ্যমে এবছর ২৩০ টন আলু নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর আরো বেশি আলু নেওয়া হবে। চিপস তৈরির উপযোগী ও উন্নতমানের আলু কেনা হবে কালাইয়ের কৃষকের কাছ থেকে।
কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার অরুণ চন্দ্র রায় বলেন নিঃসন্দেহে পেপসিকোর একটি ভালো উদ্যোগ। উপজেলা কৃষি বিভাগ তাদের ডিলারের মাধ্যমে প্রজেক্টগুলোতে মানসম্মত আলু উৎপাদনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছে। তিনি আরো বলেন মানসম্পন্ন ফসলের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (গ্যাপ) কৃষকদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মাঠে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত খাদ্যপণ্য নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে কাজ করবে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শতভাগ নিশ্চিত হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন কালাইয়ের আলু দিয়ে বিশ্বমানের চিপস তৈরি হচ্ছে, কালাই বাসীর জন্য এটি একটি ভালো খবর। কালাইয়ে প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদিত হয়। বিভিন্ন জাতের আলু উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের আলু বীজ সরবরাহ করেন কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আলু উৎপাদনের পর সঠিক মূল্যে আলু বিক্রি করতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য উপজেলা প্রশাসন কৃষকদের স্বার্থে সবসময় পাশে থাকবে। আমরা চাই আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীগণ কালাইয়ে এমন চিপস তৈরির কারখানা শুরু করে স্থানীয় কৃষকের স্বার্থে এবং একইসাথে কর্মসংস্থান তৈরিতে এগিয়ে আসবেন।
আব্দুন নুর নাহিদ।
কোন মন্তব্য নেই